Upbangla

পুদিনা পাতার উপকারিতা ও ওষুধী গুনাগুন

পুদিনা পাতার উপকারিতা ও ওষুধী গুনাগুন

পৃথিবীতে যতো রকম ওষুধী গুনাগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ রয়েছে তাদের মধ্যে পুদিনা বা পুদিনা পাতা অন্যতম। পুদিনা পাতার বহুবিদ গুণের কারণে একে অজীর্ণহর, শোক শোভন এবং সুগন্ধিপত্র নামে ডাকা হয়! বহুগুণে গুণান্বিত ছোট গুল্ম জাতীয় এই গাছটি আমাদের সকলের কাছেই সুপরিচিত । রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি প্রাচীনকাল থেকেই পুদিনা পাতা ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । পুদিনা পাতার মূল,পাতা, কান্ড সহ সমগ্র গাছটিই সৃষ্টিকর্তা আমাদের জন্য ওষুধীগুনে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন । বাজারে এখন পুদিনা পাতা খুবই সহজলভ্য । আর নিজেদের ফ্ল্যাট বাড়ির বারান্দায় টবে পুদিনা পাতা চাষ করাও খুবই সহজ ।

তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক পুদিনা পাতার জাদুকরী সব উপকারিতাগুলো!

বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে পুদিনা পাতার ব্যবহার :

১. সর্দি হলে পুদিনা পাতার রস খাওয়ার মাধ্যমে নাক বুজে যাওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো মারাত্মক
কষ্ট থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব নিমেষেই।
২. যারা অ্যাজমা এবং কাশির সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের তাৎক্ষণিক উপশমে পুদিনা পাতা বেশ
কার্যকরী। খুব বেশি নিঃশ্বাসের এবং কাশির সমস্যায় পড়লে পুদিনা পাতা গরম জলে ফুটিয়ে সেই জলেরর ভাপ
নিতে পারেন। ভাপ নিতে অসুবিধা হলে গার্গল করার অভ্যাস তৈরি করুন।
৩. গবেষকদের মতে, পুদিনা পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, যা পেটের
যে কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে খুব দ্রুত। যাঁরা হজমের সমস্যা এবং পেটের ব্যথা কিংবা পেটের নানান
সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাঁরা খাবার খাওয়ার পর ১ কাপ পুদিনা পাতার চা খাওয়ার অভ্যাস করুন। পুদিনা পাতার চা
তৈরি করা খুবই সহজ । ৬/৭টি তাজা পুদিনা পাতা গরম জলে ফুটিয়ে মধু মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যায় সুস্বাদু
পুদিনা পাতার চা ।
৪. মাথাব্যথা বা শরীরে জয়েন্টের ব্যথার কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে পুদিনা পাতার ব্যবহার করা যায় ।
কেননা পুদিনা পাতা সরাসরি চামড়ার ভেতর দিয়ে নার্ভে গিয়ে পৌঁছায় । মাথা ব্যথা হলে পুদিনা পাতার চা পান
করতে পারেন। অথবা তাজা কিছু পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। জয়েন্টে ব্যথায় পুদিনা পাতা বেটে প্রলেপ
দিতে পারেন।
৫ . পুদিনা পাতা ফুটিয়ে , পুদিনা পাতার জল তৈরি করে সেই জল গোসলের পানির সাথে মিশিয়ে গোসল
করলে খুব সহজেই ঘামাচি , অ্যালার্জি, শরীরে জ্বালাপোড়া ইত্যাদি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এছাড়াও এর মাধ্যমে গরমকালে শরীরে ব্যাকটেরিয়া জনিত বিশ্রী দুর্গন্ধের হাত থেকে রেহাই পাবেন।
৬. পুদিনার শরবত সারা দিনে ২-৩ বার করে কয়েক দিন খেলে পেটে বায়ু জমা বন্ধ হবে এবং খাদ্যে রুচিও
ফিরে আসবে এবং হজম শক্তিও বাড়বে।

৭ . খালি পেটে মধু ও লবণ মিশিয়ে পুদিনা বাটা খেলে কৃমি সারে ।
৮. বৈজ্ঞানিক গবেষকদের মতে, পুদিনা পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ । নিয়মিত পুদিনা
পাতার রস খেলে বদহজম সহ পেটের বিভিন্ন রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। এরই সাথে খাদ্যের প্রতি অরুচি
দূর হবে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পাবে ।
৯. মাইগ্রেনের ব্যথা হলে নাকের কাছে দু-তিনটি পুদিনা পাতা ধরুন। পুদিনা পাতার ঘ্রাণ মাইগ্রেনের ব্যথা
কমাতে সাহায্য করে ।১০. পিত্ত, শ্লেষ্মাজ্বর, অম্লপিত্ত, আমাশয়, অজীর্ণ, উদরশূল প্রভৃতিতে বমি হতে পরে, আবার রোদে
ঘোরাফেরা করে ঠা-া পানি খেলে এবং খালি পেটে থেকে পরিশ্রম করলে বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এসব
ক্ষেত্রে পুদিনার শরবত (পুদিনার পাতা ৮ থেকে ১০ গ্রাম বেটে তাতে পুরনো তেঁতুল ১ চা চামচ, সামান্য একটু
চিনি ও লবণ এবং পানি ২৫০ গ্রাম একত্রে মিশিয়ে) দিনে ২ থেকে ৩ বার করে কয়েক দিন খেলে বমি সেরে যাবে।
১১. মূত্রাস্বল্পতা হলো এমন একটি রোগ যার কারণে গরমে অল্প অল্প করে প্রস্রাব হতে থাকে,
কোনো কোনো সময় সে সাথে জ্বালাও থাকে। এই রোগ থেকে নিরাময় পাওয়ার জন্য পুদিনার পাতা ৮ থেকে ১০
গ্রাম ভালোভাবে বেটে তাতে সামান্য লবণ ও কাগজিলেবুর রস এবং পোয়াখানিক ঠান্ডা পানি মিশিয়ে শরবতের
মতো করে দিনে ২ থেকে ৩ বার খেতে হবে। এর ফলে প্রস্রাব সরল হবে।
১২. তাৎক্ষণিক যেকোনো ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পুদিনা পাতার রস খুবই উপকারী । ব্যথার
স্থানে কয়েকটি পুদিনা পাতা বেটে প্রলেপ দিতে পারেন।

ত্বক ও রুপ চর্চায় পুদিনা পাতার উপকারিতা :

১. রোদে পোড়া ত্বকের জ্বালা কমাতে পুদিনা পাতার রস ও অ্যালোভেরার রস এক সাথে মিশিয়ে ত্বকে
লাগান। ১৫ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন সানবার্নের জ্বালা গায়েব।
২. ব্রণ দূর করতে ও ত্বকের তেলতেলে ভাব কমাতে তাজা পুদিনা পাতা বেটে ত্বকে লাগান। দশ মিনিট রেখে
ধুয়ে ফেলুন।
৩. ব্রণের দাগ দূর করতে প্রতিদিন রাতে পুদিনা পাতার রস লাগান। সম্ভব হলে সারারাত রাখুন। যদি
সম্ভব না হয়, তাহলে কমপক্ষে ২/৩ ঘণ্টা রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। মাসখানেক এইভাবে লাগালে ব্রণের দাগ
চলে যাবে আর আপনার ত্বক হবে লাবণ্যময় ।
৪. গোলাপ, পুদিনা, আমলা, বাঁধাকপি ও শশার নির্যাস একসঙ্গে মিশিয়ে টোনার তৈরি করে মুখে লাগালে তা
ত্বককে মসৃণ করে তোলে।

৫ . পুদিনার শেকড়ের রস উকুননাশক হিসেবে খুবই কার্যকরী, এমনকি পাতাও। পুদিনার পাতা বা শেকড়ের
রস চুলের গোড়ায় লাগান। এরপর একটি পাতলা কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে
ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু বার এটা করুন। এক মাসের মধ্য চুল হবে উকুনমুক্ত।
৬ . পুদিনাপাতা পুড়িয়ে ছাই দিয়ে মাজন বানিয়ে দাত মাজলে মাড়ি থাকবে সুস্থ, দাত হবে শক্ত ও মজবুত।
এছাড়াও পানির সাথে কয়েকটি পুদিনা পাতা নিয়ে ভালো করে গরগরা সহ কুলি করলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় ।
৭. পুদিনা ত্বককে শীতল করে। খাবারের সঙ্গে নিয়মিত খেলে শরীরের ত্বক সতেজ হয়, সজীব ভাব বজায়
থাকে।
৮ . পুদিনা পাতা ত্বকের যেকোনো সংক্রমণ ঠেকাতে অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে , ত্বকের
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে ।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পুদিনা পাতার উপকারিতা ও কিছু ব্যবহারঃ

১.  মুখে অরুচি উপশমে পুদিনা পাতা বেশ কার্যকরী। পুদিনা পাতার শরবত  নিয়মিত ৭-৮ দিন পান করলে মুখের অরুচি সেরে যাবে।

২. যাদের মাত্রাতিক্ত পেট ব্যথা হয় তারা পুদিনা পাতা ও আদার ১ চামচ রস লবন দিয়ে খেলে পেট ব্যথা কমে যাবে।

৩. খাওয়ার সাথে পুদিনা পাতা সলাত হিসাবে  ব্যবহার করলে এটি  দেহে হজম শক্তি বাড়া।

৪.  এছাড়াও শরীরে বিভিন্ন অংশে দাদ জন্মালে পুদিনা পাতার রস লাগালে দাদ ভালো হয়ে যায়।

৫.  শরীরে জ্বর কফ সর্দি হলে পুদিনা পাতার  ২ চামচ রস লবন দিয়ে খেলে জ্বর কফ সর্দি সেরে যায়।

পুদিনা পাতার মতো নিম পাতা আরেকটি নানা রকম ঔষধি গুনাগুন সম্পর্ন  উপাদান। নিম পাতার উপকারিতা সর্ম্পকে জানতে ক্লিক করুন। 

পুদিনা পাতা সর্ম্পকে আরো জানতে চাইলে ক্লিক করুন! 

Scroll to Top