ব্রণ দূর করার উপায়

ব্রন দূর করার উপায়

মুখে ব্রণের দাগ দূর করার উপায়

কিশোরী থেকে শুরু করে যে কোনো বয়সী মেয়েদের কাছে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম ব্রণ।  ত্বকের যত্নে একটু হেরফের হলেই মুখে ব্রণের উপস্থিতি দেখা যায়। বয়ঃসন্ধিতে দু’একটা ব্রণ হওয়া স্বাভাবিক। তবে যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে ব্রণ দেখা দেয় তখন সেই ব্রণ দূর করতে একটু বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। আর ব্রণ দূর করার জন্য সবাই ওষুধের চেয়ে ঘরোয়া টোটকা বা প্রাকৃতিক জিনিস ব্যবহার করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

তবে সবচেয়ে ভালো হয় কি কি কারণে ব্রণ হয় প্রথমে জেনে নেয়া এবং পরবতীতে সে অনুযায়ী ব্যবস্হা নিলে বা সেই ব্যাপারগুলো খেয়াল রাখা যায় তাহলে অতি দ্রুত মুখ থেকে ব্রণ দূর করা যাবে।

ব্রণ দূর করার উপায়

ব্রণ হওয়ার কারণঃ

সবার ত্বকে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা এক নয়। বয়ঃসন্ধিতে ছেলে মেয়েভেদে সবার মুখেই বর্ণের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে সে সময়ের পরেও অনেকের নিয়মিত ব্রণ হতে থাকে। এর কারণ হিসেবে নিচের বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করা যেতে পার। যেমনঃ

১. ত্বকের তৈলগ্রন্থিঃ

আমাদের সবার ত্বকেই তৈলগ্রন্থি রয়েছ। তবে কারো কারো ত্বক থেকে বেশি পরিমানে তেল নিঃসরণ হওয়া ব্রণ দেখা দেয়ার অন্যতম কারণ।


২. অপরিমিত খাওয়াদাওয়াঃ

রূপচর্চার জগতে একটি কথা বেশ প্রচলিত সেটি হল,” আপনি যা খেয়ে থাকেন সেটি আপনার ত্বকে প্রকাশ পায়। অর্থাৎ, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়ার ফলে ত্বকের তেল নিঃসরণ বাড়তে থাকে এবং ব্রণ হয়ে।এছাড়াও প্রয়োজনের চেয়ে কম পরিমাণ পানি গ্রহণ করা কিংবা অনিয়ন্ত্রিত ডায়েট করার ফলে পুষ্টির অভাবেও অনেক সময় ব্রণ হয়ে থাকে।


৩.ত্বক অপরিষ্কার রাখাঃ

আমাদের ত্বকের মধ্যে রয়েছে কিছু লোমকূপ যা ত্বকের জন্য উপকার। তবে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার না করা বা প্রতিদিন বাইরের ধুলাবালি লেগে লোমকূপে ময়লা জমে। এক সময় সেই লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখান থেকেই ব্রণের জন্ম হয়।


৪. রাত জাগা ও দুশ্চিন্তা করাঃ

প্রতিনিয়ত রাত জেগে থাকা অথবা দুশ্চিন্তার কারণে ত্বকে ব্রণের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।


৫. হরমোনের সমস্যাঃ

উপরের কারণগুলো ছাড়াও হরমোনের সমস্যা যেমন হাইপো থাইরয়েডিজম অথবা পিসিওএসজনিত সমস্যার কারণে কারো কারো ত্বকে নিয়মিতভাবে ব্রণ হতে পারে।

ব্রণ দূর করার কয়েকটি ঘরোয়া উপায়:

ঘরোয়া ফেসিয়াল করার ৫টি উপায়

ত্বকের ঔজ্জ্বল্য এবং সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় ব্রণ। আমাদের ত্বকের তৈলগ্রন্থি ব্যাটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে এর আকৃতি বৃদ্ধি পায় তখন এর ভিতরে পুঁজ জমা হতে থাকে, যা ধীরে ধীরে ব্রণ পরিবর্তন করে ব্রণের আকার ধারণ করে। তবে ব্রণ দূর করার ক্ষেত্রে বাজারের কসমেটিকস প্রোডাক্ট ব্যবহারের চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।আর ঘরোয়া, প্রাকৃতিক ও অরগানিক সামগ্রীই সবচেয়ে ভালো আর নিরাপদ।এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ারও ভয় থাকে না।

যেসব ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করে নিমেষেই ব্রণ দূর করা যায় সেগুলো হলোঃ

১. মুলতানি মাটিঃ

ত্বক অতিরিক্ত তেলতেলে সমস্যা দেখা দেয়। এ ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে মুখে মুলতানি মাটি পানি দিয়ে পেস্ট করে লাগাতে পারেন। মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ বন্ধ করে সাহায্য করে। এতে করে ব্রণের প্রবণতা কমে যাবে।

২.শশার রসঃ

শশার রস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে কিংবা সেটা আইস কিউব করে রেখেও ইউজ করা যেতে পারে।ফেসওয়াস দিয়ে মুখ ধোয়ার পর টোনারের মতো করে শশার রসদ ব্যবহার করলে ত্বক সজীব থাকে।এতে করে ব্রণ দূর হওয়ার সাথে সাথে ওপেন পোরসের প্রবলেমও সল্ভ হবে অনেকটা।

৩. শশার রস, চালের গুঁড়া ও মধুঃ

শশার রস মুখে ব্রণ দূর করতে খুবই কার্যকর। এ ছাড়া স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে এর সঙ্গে চালের গুঁড়া মিশিয়ে নিলেই হবে। তাছাড়া যাদের মধুতে অ্যালার্জি না থাকলে সামান্য মধুও মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। তবে ত্বকে ব্রণ থাকলে তখন স্ক্রাব ব্যবহার করা যাবে না।

৪. তুলসি পাতার রসঃ

তুলসি পাতার ঔষধি গুণাগুণের সাথে এটি রূপচর্চার কাজেও ভেষজ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যায়। শুধুমাত্র তুলসি পাতার রস ব্রণ আক্রান্ত অংশে লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

৫. ডিমের সাদা অংশঃ

ডিমের সাদা অংশ ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় ম্যাসেজ করে সারারাত রাখলে পারেন। এটি আপনার ত্বকের খসখসে ভাব দূর করে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এর সাথে লেবুর রস যোগ করা যায়। আপনি এটি আধ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলতে পারেন।

৬. নিম পাতাঃ

নিম পাতার মধ্যে রয়েছে এ্যন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণের উপশম হবে।চার-পাঁচটা নিম পাতা ভালো করে ধুয়ে পিষে নিয়ে সেটা ত্বকে লাগালে ত্বকের যে কোনো সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে।

৭.কাচা হলুদঃ

প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে হলুদকে ‘সর্ব রোগের উপশম’ বলা হয়। কাচা হলুদের গুড়ো টকদইয়ের সাথে মিশিয়ে মুখে ১০ মিনিটের জন্য রেখে ধুয়ে ফেলতে হয়। এটা ব্যবহার করলে ব্রণের প্রবণতা কমার সাথে সাথে ব্রণের দাগও দূর হবে।

৮. বরফঃ

ব্রণ দূর করার জন্য সবচেয়ে সহজলভ্য জিনিস হল বরফ। ব্রণ আক্রান্ত স্থানে বরফ দিয়ে সেক দিলে সেখানকার ব্যাকটেরিয়া মরে গিয়ে ক্ষত স্থান সারিয়ে তোলে। ব্রণ কমানোর পাশাপাশি নিয়মিত বরফ ব্যবহার করলে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এতে করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

৯. নিয়মিত পানি পান করাঃ

পানি আমাদের শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয় এবং রক্ত বিশুদ্ধ করে। তাই ব্রণ হলে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের সাথে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করা উচিত। প্রতিদিন অন্তত ৯-১২ গ্লাস পানি খেলে ব্রণ দূর করা যাবে।

১০. মুখ ধোয়াঃ

ব্রন দূর করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় দিনে অন্তত দুই বার ত্বকের উপযোগী ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া এতে করে লোমকূপের ময়লা দূর হয়ে ত্বক সুন্দর থাকবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াঃ

যদি কারো ত্বকে ব্রণের মাত্রা বেড়ে যায় এবং ব্রণের প্রদাহ দেখা দেয় তাহলে ঘরোয়া টোটকা উপর নির্ভর না করে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। সেই সাথে ত্বকে কখনোই লেবু কিংবা টুথপেষ্ট সরাসরি লাগানো উচিত নয়। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

সুন্দর থাকার জন্য ফর্সা হতে হয় না। নিজেকে ভালোবাসতে পারলে প্রত্যেক মানুষই অনিন্দ্য সুন্দর।তবে ব্রণ কেবল সৌন্দর্যহানি ঘটায় না, আত্মবিশ্বাসও কমিয়ে দেয় অনেকের ক্ষেত্রে। একটু সচেতন হলে এবং ধৈর্য ধরলে কিন্তু ব্রণ দূর করা তেমন কঠিন বিষয় নয়। আর যদি ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে ব্রণ দূর করতে চান তাহলে উচিত হবে নিয়মিত যত্ন নেয়া। তাই ব্রণ দূর করার জন্য তা নিয়ে হীনমন্যতায় না ভোগে সবার আগে নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের যত্ন নিন। সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন!

ব্রন দূর করা সম্পর্কে আরো জানতে ক্লিক করুন। 

নিম পাতার জাদুকরী সব উপকারিতা সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন।

Scroll to Top